ডারউইন
ডারউইন (ইংরেজি: Darwin) প্রধানত ইঙ্গ-প্রবাদে চার্লস রবার্ট ডারউইনকে (১২ ফেব্রুয়ারি ১৮০৯ – ১৯ এপ্রিল ১৮৮২) নির্দেশ করে, যিনি ছিলেন একজন ইংরেজ প্রকৃতিবিদ, ভূতত্ত্ববিদ ও জীববিজ্ঞানী। তাঁর যুগান্তকারী গবেষণাকর্ম প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করে। বিজ্ঞানের ইতিহাসে তিনি সর্বাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত, এবং তাঁর মতবাদ প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে মানবজাতির ধারণা ও সেখানে মানুষের অবস্থান সম্পর্কিত উপলব্ধিকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে। তাঁর তত্ত্ব সর্বপ্রথম সম্পূর্ণরূপে উপস্থাপিত হয় On the Origin of Species (১৮৫৯) গ্রন্থে, যেখানে তিনি প্রস্তাব করেন যে প্রাকৃতিক নির্বাচন নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সময়ের বিবর্তনে সকল প্রজাতি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বংশোদ্ভূত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের পাশাপাশি "ডারউইন" নামটি তাঁর সম্মানে নামাঙ্কিত বহু স্থান, প্রতিষ্ঠান, ধারণা ও এককের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের ডারউইন শহর উল্লেখযোগ্য।
প্রেক্ষাপট ও প্রাথমিক জীবন
চার্লস ডারউইন ইংল্যান্ডের শ্রপশায়ার কাউন্টির শ্রুসবারি শহরে এক সমৃদ্ধ ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রতিপত্তিশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রবার্ট ডারউইন ছিলেন একজন সফল চিকিৎসক, আর মাতা সুসানা ওয়েজউড ছিলেন বিখ্যাত ওয়েজউড সিরামিক পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতামহ ইরাসমাস ডারউইন নিজেও একজন প্রখ্যাত প্রাকৃতিক দার্শনিক ছিলেন, যিনি বিবর্তন সংক্রান্ত ধারণার আভাস প্রদান করেছিলেন। ডারউইনের পরিবার ছিল ইউনিটেরিয়ান মতাবলম্বী, তবে তাঁকে ইংল্যান্ডের গির্জায় ব্যাপটাইজ করা হয়েছিল।
কৈশোরে ডারউইন প্রাকৃতিক ইতিহাসের প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখাতেন; তিনি নমুনা সংগ্রহ করতেন এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ করতেন। পিতার ইচ্ছায় তাঁকে প্রথমে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে (১৮২৫–১৮২৭) চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার জন্য পাঠানো হয়, কিন্তু অস্ত্রোপচার ও বক্তৃতার প্রতি তাঁর বিতৃষ্ণা জন্মে এবং তিনি প্রাকৃতিক ইতিহাসের প্রতি মনোনিবেশ করে চিকিৎসাবিদ্যার পাঠ অবহেলা করতে থাকেন; সেখানে তিনি প্রাণীর কুট (ট্যাক্সিডার্মি) তৈরির কৌশল শেখেন এবং ছাত্র সংস্থায় যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি অ্যাংলিকান ধর্মযাজক হওয়ার প্রস্তুতির জন্য কেমব্রিজের ক্রাইস্ট কলেজে ভর্তি হন। কেমব্রিজে ১৮৩১ সালে তিনি কলা বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং উদ্ভিদবিদ জন স্টিভেন্স হেনস্লো ও ভূতত্ত্ববিদ অ্যাডাম সেজউইকের মতো প্রভাবশালী প্রকৃতিবিদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যাঁদের পরামর্শদান তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।
বিগল জাহাজে ভ্রমণ
স্নাতক হওয়ার পর হেনস্লো ডারউইনকে এইচএমএস বিগল জরিপ জাহাজে "জেন্টলম্যান প্রকৃতিবিদ" পদের সুপারিশ করেন; জাহাজটির অধিনায়ক ছিলেন রবার্ট ফিটরয়। ২৭ ডিসেম্বর ১৮৩১ থেকে ২ অক্টোবর ১৮৩৬ পর্যন্ত স্থায়ী এই সমুদ্রযাত্রা ডারউইনের জীবন ও বৈজ্ঞানিক বিকাশের সর্বাধিক গঠনমূলক অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রমাণিত হয়।
প্রায় পাঁচ বছরের এই অভিযানে জাহাজটি দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল জরিপ করে এবং পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে। ডারউইন যাত্রার অধিকাংশ সময় স্থলভাগে কাটান; তিনি জীবাশ্ম, ভূতাত্ত্বিক নমুনা, উদ্ভিদ ও প্রাণী সংগ্রহ করেন এবং তাঁর নোটবুকে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ নথিভুক্ত করেন। পাতাগোনিয়ায় বিলুপ্ত বিশাল স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবিষ্কার, প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবালপ্রাচীর গঠনের পরীক্ষণ, এবং সবচেয়ে বিখ্যাতভাবে গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে মকবার্ড ও ফিঞ্চ পাখির বৈচিত্র্য সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ প্রজাতির অপরিবর্তনীয়তা (fixity of species) বিষয়ে তাঁর মনে প্রথম সন্দেহের বীজ বপন করে। ভ্রমণকালে চার্লস লায়েলের Principles of Geology পাঠ তাঁকে পৃথিবীর অপরিমেয় প্রাচীনত্ব এবং ধীর ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন সম্পর্কে বিশ্বাসী করে তোলে, যা ধীর জৈবিক রূপান্তর সম্পর্কে চিন্তা করার একটি ধারণাগত কাঠামো প্রদান করে।
ইংল্যান্ডে ফেরার পর ডারউইন বিজ্ঞানী মহলে প্রশংসিত হন। তিনি যাত্রার বিবরণী Journal and Remarks (পরবর্তীতে The Voyage of the Beagle নামে পরিচিত) প্রকাশ করেন এবং তাঁর বিস্তৃত সংগ্রহ বিশ্লেষণের জন্য বিশেষজ্ঞদের ব্যবস্থা করেন, যা তাঁকে একজন গুরুতর প্রকৃতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
বিবর্তন তত্ত্বের বিকাশ
১৮৩৮ সালে, ভ্রমণ শেষে দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, ডারউইন অর্থনীতিবিদ টমাস ম্যালথাসের An Essay on the Principle of Population পড়েন, যেখানে বর্ণিত হয় যে সসীম সম্পদের সীমাবদ্ধতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হওয়া পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ডারউইন উপলব্ধি করেন যে প্রকৃতিতে অনুরূপ অস্তিত্বের সংগ্রামের ফলে অনুকূল বৈচিত্র্যযুক্ত জীবের বেঁচে থাকা ও প্রজননের সম্ভাবনা বেশি হবে এবং তারা তাদের বংশধরদের কাছে সেই বৈচিত্র্য সঞ্চারিত করবে। তিনি এই প্রক্রিয়াটিকে "প্রাকৃতিক নির্বাচন" নামে অভিহিত করেন, যা পশুপাখি ও উদ্ভিদ প্রজননকারীদের কৃত্রিম নির্বাচনের সঙ্গে সাদৃশ্য থেকে উদ্ভূত।
তাৎক্ষণিক প্রকাশের পরিবর্তে ডারউইন পরবর্তী দুই দশক প্রমাণ সংগ্রহে, সর্বত্র প্রকৃতিবিদদের সঙ্গে পত্রালাপে, উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এবং তাঁর তত্ত্ব পরিমার্জনে ব্যয় করেন। তিনি কেবল জোসেফ ডালটন হুকার ও চার্লস লায়েলের মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ছোট মহলে নিজের ধারণা প্রকাশ করেন, যাঁরা তাঁকে প্রকাশের জন্য অনুরোধ করেন। তাঁর সংকোচকে প্রায়শই ধর্মীয় ও সামাজিক বিতর্কের ভয়ের কারণে হিসেবে দেখা হয়, কারণ তাঁর তত্ত্ব ইঙ্গিত করত যে মানুষ বিশেষভাবে সৃষ্ট নয়।
১৮৫৮ সালে ডারউইন আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসের কাছ থেকে একটি পাণ্ডুলিপি গ্রহণ করেন; মালয় দ্বীপপুঞ্জে কর্মরত এই প্রকৃতিবিদ স্বাধীনভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের প্রায় অভিন্ন তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছিলেন। লায়েল ও হুকার ১৮৫৮ সালের জুলাইয়ে লন্ডনের লিনীয় সোসাইটিতে ডারউইন ও ওয়ালেসের রচনার যৌথ উপস্থাপনার ব্যবস্থা করেন। এই ঘটনা ডারউইনকে তাঁর বৃহত্তর পরিকল্পিত গ্রন্থের সারসংক্ষেপ সম্পূর্ণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
প্রজাতির উৎপত্তি
On the Origin of Species by Means of Natural Selection, or the Preservation of Favoured Races in the Struggle for Life ২৪ নভেম্বর ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি প্রজাতির সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হওয়ার ব্যাপক প্রমাণ উপস্থাপন করে এবং যুক্তি দেয় যে বিবর্তনীয় পরিবর্তনের প্রধান প্রক্রিয়া হলো প্রাকৃতিক নির্বাচন। ডারউইন যুক্তি দেখান যে জনসংখ্যার মধ্যে বংশগত বৈচিত্র্য বিদ্যমান, সম্পদ সীমিত ও প্রতিযোগিতা তীব্র, এবং যেসব জীব পরিবেশের সঙ্গে অধিকতর খাপ খায় তারা অধিকতর সফলভাবে টিকে থাকে ও প্রজনন করে।
গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণের ১,২৫০ কপি প্রথম দিনেই বিক্রি হয়ে যায়। গ্রন্থটি দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয় ও বৈজ্ঞানিক বিতর্কের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়, যদিও ডারউইন প্রথম সংস্করণে মানব বিবর্তন নিয়ে আলোচনা সতর্কভাবে এড়িয়ে যান এবং কেবল মন্তব্য করেন যে "মানুষ এবং তার ইতিহাসের উৎপত্তির উপর আলো পড়বে"। পরপর একাধিক সংস্করণে তিনি সমালোচনার জবাব দেন, তাঁর যুক্তি পরিমার্জন করেন এবং পরবর্তী সংস্করণে দার্শনিক হার্বার্ট স্পেন্সার কর্তৃক উদ্ভাবিত "উপযুক্ততমের টিকিয়ে থাকা" (survival of the fittest) বাক্যাংশটি অন্তর্ভুক্ত করেন।
পরবর্তী গ্রন্থাবলি
ডারউইন জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রভাবশালী গ্রন্থ প্রকাশ অব্যাহত রাখেন:
- ***The Variation of Animals and Plants under Domestication* (১৮৬৮)**: গৃহপালিত জীবের বংশগতি ও বৈচিত্র্যের প্রক্রিয়া পরীক্ষা করে।
- ***The Descent of Man, and Selection in Relation to Sex* (১৮৭১)**: বিবর্তন তত্ত্বকে স্পষ্টভাবে মানবজাতিতে প্রয়োগ করে, যুক্তি দেয় যে মানুষ বানর-সদৃশ পূর্বপুরুষ থেকে বংশোদ্ভূত, এবং যৌন নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করে ব্যাখ্যা করে অলংকৃত পালকের মতো বৈশিষ্ট্য, যা শুধু প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা ব্যাখ্যাযোগ্য বলে মনে হতো না।
- ***The Expression of the Emotions in Man and Animals* (১৮৭২)**: মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে আবেগের প্রকাশের ধারাবাহিকতা অন্বেষণ করে এবং মনোবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞানে (ইথোলজি) একটি ভিত্তিমূলক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়।
- তাঁর উদ্ভিদবিজ্ঞান-সংক্রান্ত কর্ম, যার মধ্যে রয়েছে The Fertilisation of Orchids (১৮৬২), The Power of Movement in Plants (১৮৮০) এবং মাংসাশী উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা, বিস্তারিত পরীক্ষণমূলক গবেষণায় প্রয়োগকৃত বিবর্তনীয় চিন্তাভাবনার প্রদর্শন করে।
ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাস্থ্য
১৮৩৯ সালে ডারউইন নিজের ফুফুতো বোন এমা ওয়েজউডকে বিয়ে করেন, যাঁর ঘরে তাঁর দশ সন্তান জন্মগ্রহণ করে; এঁদের তিনজন শৈশবেই মারা যান। ১৮৫১ সালে কন্যা অ্যানির মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করে। আনুমানিক আঠাশ বছর বয়স থেকে ডারউইন দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভুগতেন—বারবার বমিভাব, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম, ক্লান্তি ও অন্যান্য উপসর্গ—যার কারণ কখনোই নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা যায়নি; সম্ভাব্য ব্যাখ্যার মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকায় সংক্রমিত চাগাস রোগ থেকে শুরু করে বংশগত অসুখ বা মনোস্নায়ুক কারণ পর্যন্ত রয়েছে। ১৮৪২ সালে তিনি কেন্টের ডাউন গ্রামে ডাউন হাউসে বসবাস শুরু করেন, যেখানে তিনি এক নির্জন পণ্ডিত-জীবনযাপন করতেন এবং নিজের বাগান ও গ্রিনহাউসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন।
গ্রহণযোগ্যতা ও বিতর্ক
On the Origin of Species প্রকাশের ফলে তীব্র বিতর্কের সূচনা হয়। বহু বিজ্ঞানী দ্রুত সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তন মেনে নিলেও, এর প্রক্রিয়া হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচন অধিকতর সন্দেহের সম্মুখীন হয় এবং ১৯৩০-এর দশক ও ১৯৪০-এর দশকের আধুনিক বিবর্তনীয় সংশ্লেষণ (মডার্ন ইভোলিউশনারি সিনথেসিস) পর্যন্ত ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করেনি, যেখানে এটি মেন্ডেলীয় বংশগতিবিজ্ঞানের সঙ্গে সমন্বিত হয়। ধর্মীয় বিরোধিতা ছিল কঠোর, কারণ এই তত্ত্ব বাইবেলের সৃষ্টিতত্ত্বের আক্ষরিক ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করে। সবচেয়ে বিখ্যাত সংঘর্ষ ঘটে ১৮৬০ সালের অক্সফোর্ড বিতর্কে, যেখানে বিশপ স্যামুয়েল উইলবারফোর্স ও ডারউইনের প্রতিরক্ষাকারী টমাস হেনরি হাক্সলি প্রকাশ্যে মুখোমুখি হন। ডারউইন নিজে স্বাস্থ্য ও স্বভাবের কারণে মূলত জনবিতর্ক থেকে দূরে থাকেন এবং হাক্সলি, হুকার ও আসা গ্রে-র মতো সহযোগীদের হাতে নিজের মতবাদের প্রতিরক্ষা ছেড়ে দেন।
মৃত্যু ও স্মরণ
চার্লস ডারউইন ১৯ এপ্রিল ১৮৮২ সালে ৭৩ বছর বয়সে ডাউন হাউসে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বৈজ্ঞানিক সহকর্মী ও সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে চাপের পর তাঁকে আইজ্যাক নিউটন ও জন হার্শেলের নিকটে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে সমাহিত করা হয়—যা জাতীয়ভাবে তাঁর প্রতি প্রদত্ত উচ্চ সম্মানের প্রমাণ।
ডারউইনের অবদান ব্যাপকভাবে স্মরণীয় করা হয়েছে। তিনি অল্প কিছু বিজ্ঞানীর একজন, যাঁর প্রতিকৃতি ব্রিটিশ ব্যাংকনোটে স্থান পেয়েছে; ইংল্যান্ডের ব্যাংকের ১০ পাউন্ড নোটে তিনি ২০০০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন। বহু প্রজাতি, গণ ও উচ্চতর ট্যাক্সন তাঁর নামে নামাঙ্কিত হয়েছে, ঠিক যেভাবে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের ডারউইন শহর, অ্যান্টার্কটিকার ডারউইন পর্বতমালা এবং গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের চার্লস ডারউইন রিসার্চ স্টেশন নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর জন্মদিন ১২ ফেব্রুয়ারি বহু বৈজ্ঞানিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিকভাবে ডারউইন দিবস হিসেবে পালিত হয়। ডাউন হাউস বর্তমানে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত।
উত্তরাধিকার ও প্রভাব
প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনের ডারউইনীয় তত্ত্ব আধুনিক জীববিজ্ঞানের একীভূতকারী কাঠামো, যা বংশগতিবিজ্ঞান, জীবাশ্মবিজ্ঞান, বাস্তুবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও কৃষিবিজ্ঞানের গবেষণার ভিত্তি গড়ে দেয়। বিবর্তনীয় চিন্তাধারা সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিজ্ঞানেও সম্প্রসারিত হয়েছে, যার ফলে বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান ও জেনেটিক অ্যালগরিদমের মতো ক্ষেত্রের উদ্ভব ঘটেছে।
তাঁর ধারণাগুলো ভুলভাবে প্রয়োগ ও বিকৃতিও হয়েছে। সামাজিক বৈষম্য ও সাম্রাজ্যবাদী সম্প্রসারণকে ন্যায্যতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রণীত তথাকথিত "সামাজিক ডারউইনবাদ" মূলত স্পেন্সারের মতো পরবর্তী চিন্তাবিদদের সৃষ্টি ছিল এবং এটি ডারউইনের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করত না। একইভাবে ইউজেনিক্স, যদিও ডারউইনের কিছু সমসাময়িক ও বংশধর দ্বারা গৃহীত হয়েছিল, আজ বিবর্তনীয় বিজ্ঞানের একটি ভয়াবহ বিকৃতি হিসেবে গণ্য। আধুনিক বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান বিজ্ঞানভিত্তিক বিবর্তন তত্ত্ব ও এই ধরনের মতাদর্শিক অপব্যবহারের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্দেশ করে।
বিজ্ঞানের ইতিহাসবিদরা ধারাবাহিকভাবে ডারউইনকে কোপার্নিকাস, নিউটন ও আইনস্টাইনের সঙ্গে মানব ইতিহাসের সর্বাধিক প্রভাবশালী চিন্তাবিদদের অন্যতম হিসেবে স্থান দিয়েছেন, কারণ পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং নিজস্ব উৎপত্তি সম্পর্কে মানবজাতির উপলব্ধিকে তাঁর কর্ম নতুন দিকে মোড় নিয়েছে।
নামটির অন্যান্য ব্যবহার
চার্লস ডারউইন ও তাঁর পরিবারের খ্যাতির কারণে "ডারউইন" নামটি বহু স্থান, বস্তু ও ধারণায় প্রয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- ডারউইন, উত্তরাঞ্চল: অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরির রাজধানী শহর, চার্লস ডারউইনের নামে নামাঙ্কিত, যিনি ১৮৩৯ সালে এইচএমএস বিগল জাহাজে এই অঞ্চল পরিদর্শন করেছিলেন।
- ডারউইন (একক): বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানে ব্যবহৃত বিবর্তনীয় পরিবর্তনের একক, যা প্রতি দশ লক্ষ বছরে একটি বৈশিষ্ট্যের e গুণ পরিবর্তন হিসেবে সংজ্ঞায়িত।
- ইরাসমাস ডারউইন (১৭৩১–১৮০২): চার্লস ডারউইনের পিতামহ, একজন চিকিৎসক, কবি ও প্রারম্ভিক বিবর্তনবাদী।
- জর্জ ডারউইন (১৮৪৫–১৯১২): চার্লসের পুত্র, জোয়ার-ভাটার বিবর্তন নিয়ে কাজের জন্য পরিচিত জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
- ডারউইন অ্যাওয়ার্ডস: একটি অনানুষ্ঠানিক রসিক সম্মান, যা অহেতুক দুঃসাহসিক আচরণের মাধ্যমে দুর্ঘটনাক্রমে জিনপুল থেকে নিজেদের অপসারণকারী ব্যক্তিদের প্রদান করা "হয়"।
- ডারউইন (অপারেটিং সিস্টেম): ইউনিক্স-ভিত্তিক মূল অপারেটিং সিস্টেম, যার উপর অ্যাপলের macOS নির্মিত।
- ডারউইন কলেজ, কেমব্রিজ: ডারউইন পরিবারের সম্মানে নামা�
You May Be Interested In
মিশর
মিশর (আরবি: مصر, রোমানায়িত: মিস্র), আনুষ্ঠানিক নাম আরব প্রজাতন্ত্রী মিশর, আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্ত ও পশ্চি...
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯–১৯৪৫) ছিল মানব ইতিহাসের সর্বাধিক প্রাণহানিকর ও ব্যাপী সামরিক সংঘাত, যা নাৎসি জার্মানি, জাপানি...
জাপান
জাপান, আনুষ্ঠানিক নাম জাপান রাষ্ট্র, পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র যা জাপান সাগরের অপর পাশে এশীয় মূল ভূখণ্ডের পূর্বে...
ভারত
ভারত, যার সরকারি নাম ভারতীয় প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত একটি দেশ এবং ১.৪ বিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যাসহ বিশ্বের সর...
Comments (0)
No comments yet. Be the first to comment!